ক্রেডিট কার্ড নেয়ার নিয়ম এবং প্রয়োজনিয় ডকুমেন্টস

আপনি হয়ত ভাবছেন ক্রেডিট কার্ড কিভাবে বানাবো বা ক্রেডিট কার্ড নেয়ার নিয়ম কি? আপনার সবিধার্থে আজকের এই পোস্টে আমি এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি।

ক্রেডিট কার্ড নেয়ার নিয়ম | How to get credit card in bangladesh

ক্রেডিট কার্ড কি ভাবে পাবো সেটা আসলে কঠিন কোনো বিষয় নয়। আপনার যদি ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা গুলো ফুলফিল হয় এবং আপনার প্রয়োজনিয় সকল ডকুমেন্টস থাকে তবে আপনি খুব সহজে একটি Credit Card পেয়ে যাবেন। এখন আসুন ক্রেডিট কার্ড নেয়ার নিয়ম দেখে নেয়া যাক।

ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা

একজন ব্যাক্তি ক্রেডিট কার্ড নিতে পারবে কি পারবে না তা মূলত নির্ধারণ করে ব্যাংক ব্যাক্তির ডকুমেন্টস, স্যালারী বা আনুষঙ্গিক বিষয়দি চেক এবং বিবেচনা করে। যদিও ব্যাংক ভেদে ক্রেডিট কার্ডের জন্য শর্তাবলী ভিন্ন, তবুও কিছু নিয়ম তো সব জায়গায় এক। এর মধ্যে কিছু নিয়ম দেখে নেয়া যাক।

  • যে ব্যাংকের কার্ড নিতে চান সে ব্যাংকে আপনার একটি একাউন্ট থাকতে হবে।
  • আপনার একাউন্টে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা থাকতে হবে।
  • কার্ডের ধরণ অনুযায়ি আপনার মাসিক স্যালারির একটি সামঞ্জস্যতা থাকতে হবে।
  • আপনার পেশার সাথে সম্পর্কিত প্রয়োজনিয় কিছু ডকুমেন্টস থাকতে হবে।
  • ব্যাংকের চাহিদা অনুযায়ী আবেদনকারীর পক্ষে কয়েকজন জামিনদার এর স্বাক্ষর প্রয়োজন হতে পারে।
  • ব্যাংক কর্তৃক ভেরিফিকেশন গুলোতে আবেদনকারী কে উত্তীর্ণ হতে হবে।
  • এছাড়াও ভিন্ন ভিন্ন ব্যাংকে ভিন্ন ভিন্ন ডকুমেন্টসের প্রয়োজন হতে পারে।

ক্রেডিট কার্ড নেয়ার জন্য প্রয়োজনিয় ডকুমেন্টস

ক্রেডিট কার্ড দেয়ার আগে ব্যাংক আপনার কিছু ডকুমেন্টস আছে কিনা তা চেক করবে। আপনার পেশা কি তা দেখা হবে এবং এর সাথে সাথে আপনার কিছু কাগজপত্র আপনাকে জমা করতে হবে ব্যাংকে। আপনার যেসকল ডকুমেন্টস চেক করা হবে তা হলো:

  • ন্যাশনাল আইডি কার্ড।
  • টিআইএন সার্টিফিকেট।
  • চাকুরিজিবীদের জন্য স্যালারি সার্টিফিকেট এবং তাদের বিগত তিন মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট।
  • ব্যবসায়ি হলে ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স এবং বিগত তিন মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট।
  • কিছু কিছু কার্ডের ক্ষেত্রে ব্যাংক বয়স সিমা নিধারণ করে দেয় এবং কার্ড পাওয়ার জন্য প্রার্থীকে সেই বয়সধারী হতে হবে।

ক্রেডিট কার্ড নেয়ার নিয়ম

আপনার যদি ক্রেডিট কার্ড নেয়ার ইচ্ছা থাকে তবে যেমনটা বলা হয়েছে যে আপনার আগে ব্যাংকে একটি একাউন্ট করতে হবে। সেখানে ব্যাংক কতৃপক্ষকে আপনার কার্ড নেয়ার ইচ্ছার কথা জানাতে হবে। তারপর প্রয়োজন অনুযায়ি আপনার সকল ডকুমেন্টস জমা করতে হবে এবং আরো যা যা লাগে তা দিতে হবে।

আপনার সকল ডকুমেন্টস গুলো চেক এবং ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা ব্যাংক কতৃক বিবেচিত হওয়ার পর আপনি একটি ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। তারপর ব্যাংক আপনার আবেদন গ্রহণ করে একটি নির্দিষ্ট সময় আপনার কাছ থেকে নিবে।

এই সময় পর তারা আপনাকে আপনার কার্ড বুঝিয়ে দিবে। তবে এর জন্য প্রয়োজনিয় চার্জ তারা আপনার একাউন্ট থেকে কেটে নিয়ে নিবে।

ক্রেডিট কার্ড নেয়ার আগে আরো যা জানা দরকার, এখানে পড়ুন।

অনলাইনে ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদনের নিয়ম

অনেকে হয়তো অনলাইনে একাউন্ট খুলেছেন খুলার কথা ভাবছেন। তারা হয়তো কখনো ব্যাংক ভিজিট করেন নি অথবা ভিজিট করার মতো সময় নেই। তাদের জন্যও ক্রেডিট কার্ড করার সহজ নিয়ম রয়েছে।

অনলাইনে ব্যাংক একাউন্ট করার সময় সেখানে তারা আপনাকে কিছু ফ্যাসিলিটি নেয়ার সম্পর্কে জিঙ্গেস করবে। সেখানে থাকতে পারে ইন্টারনেট ব্যাংকিং সুবিধা, চেক বুক সুবিধা, ক্রেডিট কার্ড সুবিধা বা আরো অন্যান্য সুযোগ সুুবিধা।এর মধ্যে আপনাকে ক্রেডিট কার্ড নেয়ার ব্যাপারে তাদের ইনফর্ম করতে হবে সুবিধাটি সিলেক্ট করার মাধ্যমে।

অথবা কিছু ব্যাংকের নিজস্ব মোবাইল এপ আছে, যেখান থেকে আপনি ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তারপর হয়তো কয়েক কার্যদিবষের মধ্যে তারা কোরিয়ারে আপনার কাছে আপনার কার্ড পাঠিয়ে দিতে পারে। আবার হতে পারে আপনাকে ব্যাংকে গিয়ে তা নিয়ে আসতে হবে।

জেনে নিন কোন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ভালো

ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহারের নিয়ম

আপনার কার্ডের গোপনিয়তা নিশ্চিত করুন, যেন আপনার কোড এমন কারো কাছে না চলে যায় যার মাধ্যমে অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটতে পারে। গোপনিয়তা নিশ্চিত করে আপনি এই কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন বিভিন্ন কাজে।

কার্ডে দরকার না হলে টাকা রাখার প্রয়োজন নেই। এতে যে কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে। আর কার্ড অন্য কারো হাতে না দেয়াই ভালো।

কার্ড ম্যাক্স আউট করা থেকে বিরত থাকা উচিত। সেই সাথে অপ্রয়োজনিয় কেনাকাটা বা ছোট লেনদেন গুলোতে কার্ড ব্যবহার না করাই ভালো। আর সবসময় স্টেটম্যান্ট এর উপর নজর রাখা উচিত।

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের সুবিধা

  • কেনা কাটা করার সময় ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি কিছু বিশেষ সুবিধা বা ডিসকাউন্ট নিতে পারেন।
  • ডুয়েল কারেন্সি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে ইন্টারন্যাশনাল লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবেন।
  • ভ্রমনে হোটেল বুকিংয়ে পাবেন বিশেষ মূল্য ছাড়।
  • এছাড়া সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে, আপনি এখানে ফ্রি মানি শপিং করার জন্য ব্যবহার করতে পারবেন, যা একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবার আপনাকে রিটার্ন করে দিতে হবে।

এছাড়াও আরো অনেক সুবিধা আপনি ভোগ করতে পারবেন একটি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে।

*এই পোস্টের মতো ক্রেডিট কার্ডের আরো গুরুত্বপূর্ণ সকল তথ্য পেতে ভিজিট করতে পারেন “ক্রেডিট কার্ড”এই লিংকে।

ডেভিড কার্ড ও ক্রেডিট কার্ডের মধ্যে পার্থক্য

কিছু ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড সম্পর্কে জানুন

১. সুদমুক্ত ইসলামী ব্যাংক খিদমাহ ক্রেডিট কার্ড ফিচার
২. ডাচ বাংলা ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড

Similar Posts

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।