অনলাইন ব্যাংকিং দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বিশ্বব্যাপি। কারণ এর সহজ সমাধান গুলো মানুষকে সবসময় আকৃষ্ট করে। এটি মানুষকে তাদের কমফোর্ট জোন থেকে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার এক বিশাল সুবিধা ‍দিয়ে থাকে। ফলে সময় বাঁচে ও অনেক ধরণের বাড়তি ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকে ব্যবহারকারী।

অন্য সব জায়গার মতো বাংলাদেশে অনলাইন ব্যাংকিং (Online banking in Bangladesh) জনপ্রিয় হচ্ছে। এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব আমাদের জীবণে দিন দিন বেড়েই চলেছে। ব্যাংকে গিয়ে অনেক সময় নষ্ট করার থেকে মানুষ এখন সময় বাচিয়ে তা অন্য প্রোডাক্টিভ কাজে লাগাতে পারছে।

যাই হোক, অনলাইন ব্যাংকিং কি এবং বাংলাদেশে বর্তমানে এর অবস্থান। সেই সাথে এর সুবিধা ও অসুবিধা গুলো এবং অনলাইন ব্যাংকিং এর সাথে যুক্ত হতে কি করতে হবে। এই সব নিয়ে থাকছে আজকের এই পোস্ট।

Online Banking in Bangladesh | বাংলাদেশে অনলাইন ব্যাংকিং

অনলাইন ব্যাংকিং ও বাংলাদেশ

অনলাইন ব্যাংকিং কি

অনলাইন ব্যাংকিং হল অন্যতম সহজ মাধ্যম যার মধ্যদিয়ে মানুষ ইন্টারনেটের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন বিষয়ক কার্যক্রম করতে পারে। প্রকৃতপক্ষে, এটি অন্য যেকোনো উপায়ের চেয়ে অর্থ স্থানান্তরের একটি সুবিধাজনক উপায়। 

অনলাইন ব্যাংকিং এর অপর নাম: অনলাইন ব্যাংকিং কে ইন্টারনেট ব্যাংকিং নামেও মানুষ চিনে থাকে।

বাংলাদেশে অনলাইন ব্যাংকিং

সময়ের সাথে সাথে এই সিস্টেমটি অনেক কারণে বাংলাদেশে লেনদেনের একটি জনপ্রিয় মাধ্যম হয়ে উঠছে। সবচেয়ে বড় কারণগুলির মধ্যে একটি হল এটি লোকেদের তাদের সুবিধাজনক স্থান থেকে তাদের লেনদেন ক্রিয়াকলাপ করতে দেয়। 

এছাড়াও, এখন একটি বিশাল জনসংখ্যার ইন্টারনেটে অ্যাক্সেস রয়েছে। বিশেষ করে এখনকার যে তরুণ প্রজন্ম তাদের সাথে তো এই ইন্টারনেট অতপ্রত ভাবে জড়িয়ে যাচ্ছে। তারা সব ধরনের সহজ এবং আধুনিক পদ্ধতির প্রতি বেশি আগ্রহী। ফলস্বরূপ, এটি এখন এই দেশে প্রতিদিন মানুষের জীবনের একটি বিশাল দরকারী দিক হয়ে উঠছে।

Best online banking facility provider banks list

অনেক বেসরকারি এবং স্থানীয় ব্যাংক এখন অনলাইনে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। এখানে বাংলাদেশের কিছু ব্যাংকের নাম দেওয়া হল যেগুলি ইতমধ্যে ইন্টারনেট ব্যাংকিং সুবিধা প্রদান করছে:

#<<বাংলাদেশ থেকে ইন্টারন্যাশনাল পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার নিয়ম>>

অনলাইন ব্যাংকিং সিস্টেমটি যেভাবে কাজ করে

ব্যাংক সাধারণত সফ্টওয়্যার তৈরি করে বা একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে, যেখানে ব্যাংক তাদের সমস্ত পরিষেবার বিষয়গুলি সংগঠিত করে। ব্যবহারকারীরা এটিতে প্রবেশ করতে হলে প্রথমে ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করে অ্যাপ বা সফ্টওয়্যারের সাথে ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। 

তারপর তারা একটি নির্দিষ্ট আইডি এবং পাসওয়ার্ড পান। তারপর এই সিস্টেমটি সঠিকভাবে ব্যাবহার করা যায়। এটি চব্বিশ ঘন্টা চলে এবং সারা সপ্তাহ জুড়ে (তার মানে যে কোনও সময় এবং যে কোনও জায়গায়)। যতক্ষন ব্যবহারকারী ইন্টারনেটে যুক্ত থাকেন।

Advantages and disadvantages of online banking

অনলাইন ব্যাংকিং এর সুবিধা

ব্যাংকে না গিয়ে এই ব্যাংকিং পদ্ধতি ব্যবহারকারীদের এই সেবাগুলি দিয়ে থাকে:

  • নতুন একাউন্ট খোলা
  • ব্যালেন্স চেক করা
  • অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট দেখা
  • অর্থ হস্তান্তর
  • বিল পরিশোধ
  • তথ্য আপডেট করা

প্রায় সব ব্যাংক এই মৌলিক সেবাগুলি দিয়ে থাকে। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংক বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকে। যেমন একটি প্লেন বা রেলের টিকিট বুকিং, পেমেন্ট ডিসকাউন্ট, মোবাইল টপ-আপ ইত্যাদি।

অনলাইন ব্যাংকিং এর অসুবিধা

এই ধরণের ব্যাংকিং পদ্ধতিতে যে কয়েকটি অসুবিধা রয়েছে তা হল:

  • নিরাপত্তা উদ্বেগ
  • প্রযুক্তিগত সমস্যা
  • টাকা জমা করতে অসুবিধা

ইত্যাদি।

প্রথমত, ব্যক্তির প্রয়োজনিয় ডেটা হ্যাকিং এর শিকার হতে পারে। কিছু প্রতারক ব্যক্তি আছে যারা ফিসিং এর মাধ্যমে বা প্রতারণা করে। এভাবে তারা অ্যাকাউন্ট হোল্ডারদের কাছ থেকে পাসওয়ার্ড চুরি করে এবং তারপর সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত কাজটি করে (টাকা নিয়ে যায়)। আবার মাঝে মাঝে সেই ব্যক্তি পাসওয়ার্ড ভুলে গিয়ে সমস্যায় পড়েন এবং এই সমস্যাটি অনেকের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।

দ্বিতীয়ত, প্রযুক্তির অ্যাক্সেসের অভাব, এটি সম্পর্কে অপর্যাপ্ত জ্ঞান, নেটওয়ার্ক সম্পর্কিত সমস্যা বা অন্যান্য। যা এই সিস্টেমটিকে জটিল করে তোলে কিছু সংখ্যক মানুষের জন্য। এছাড়াও ইন্টারনেটের মাধ্যমে সব কাজ করা সম্ভব হয় না। যেমন ব্যাংকের শাখায় না গেলে টাকা জমা দেওয়া অসম্ভব।

যাইহোক, এই ধরণের সমস্যাগুলো সম্পর্কে সচেতন হলে অনেক ক্ষেত্রেই সমাধান করা সম্ভব হয়। তাই এগুলোর ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।

How to open an online bank account in Bangladesh?

যাদের একটি ব্যাংক একাউন্ট আছে

ব্যাংকের ওয়েবসাইটে যান বা তাদের অ্যাপ ইনস্টল করুন। সাইট বা অ্যাপের সাথে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অন্তর্ভুক্ত করুন। তারপর আপনাকে তাদের হেল্পলাইন নম্বরের মাধ্যমে ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। যাতে আপনি আপনার অ্যাকাউন্ট অ্যাক্সেস করার জন্য অনুমতি পেতে পারেন।

এটা আসলে নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে তারা আপনার কিছু তথ্য চাইতে পারে। উদাহরণস্বরূপ সেলফিন হল IBBL এর একটি অ্যাপ, যেখানে প্রক্রিয়া প্রায় একই। অফলাইন অ্যাকাউন্টটি অনলাইনের সাথে সংযুক্ত করার পরে আপনি এটি ব্যবহার করতে পারবেন।

যাদের কোনো ব্যাংক একাউন্ট নেই

আপনি ইন্টারনেটের মাধ্যমে একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন। এর জন্য ব্যাংকের ওয়েবসাইট বা অ্যাপে যান। “অ্যাকাউন্ট খুলুন (Open account)” বা এই জাতীয় কিছু থাকবে, সেটি খুঁজে বের করুন এবং তারপর প্রক্রিয়া অনুসরণ করুন।

এটির জন্য আপনার জাতীয় আইডি কার্ড এবং একটি ছবি লাগবে।পাশাপাশি আপনার মনোনীত ব্যক্তির তথ্য (ছবি এবং জাতীয় আইডি কার্ড) এবং আপনার বর্তমান পেশার একটি নথি (ঐচ্ছিক) থাকা প্রয়োজন৷

সেই সাথে ব্যাংক আরও কিছু তথ্য চাইলেও চাইতে পারে। ব্যাংক অনুযায়ি এই প্রক্রিয়া ভিন্ন হবে। সেক্ষেত্রে সেই জিনিসগুলো দিয়ে আপনি একটি ব্যাংক একাউন্ট খুলতে পারবেন এবং তারপর তা ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত করতে পারবেন। 

<<অনলাইন ব্যাংক একাউন্ট খোলার সম্পর্কে আরো পড়ুন।>>

তবে যে জিনিসটি খেয়াল রাখতে হবে তা হল, সব ব্যাংক কিন্তু এই সুবিধা দিচ্ছে না। তাই আগে আপনাকে জেনে নিতে হবে কোন কোন ব্যাংক এটি এলাও করে। 

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ এই অনললাইন ব্যাংকিং সম্পর্কে আমরা নিয়মিত পোস্ট করি। তাই অনলাইন ব্যাংকিং সম্পর্কে জানতে আমাদের অন্য পোস্টগুলো পড়তে পারেন।