ট্রাস্ট ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম

আপনি কি ট্রাস্ট ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম সম্পর্কে জানতে চান? এই পোস্টে আমি এই ব্যাংকে একাউন্ট করার ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করেছি, যা আপনার জন্য কাজের হতে পারে।

ট্রাস্ট ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম | Trust bank account opening

ট্রাস্ট ব্যাংক বাংলাদেশের একটি বেসরকারী ব্যাংক যা সেনা কল্যান ট্রাস্ট কতৃক পরিচালিত। এই ব্যাংকে অন্যান্য ব্যাংকের মতো আপনি সেভিংস একাউন্ট (Trust bank savings account) বা কারেন্ট একাউন্ট খুলতে পারবেন।

যাই হোক, এই পোস্টে আমি আলোচনা করেছি ট্রাস্ট ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম, একাউন্ট করার শর্ত এবং একাউন্ট করার জন্য প্রয়োজনিয় ডকুমেন্টস নিয়ে।

ট্রাস্ট ব্যাংক একাউন্টের ধরন

সেভিংস একাউন্ট: আপনি যদি প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট এমাউন্ট টাকা ভবিষ্যতের জন্য জমাতে চান তবে আপনি ট্রাস্ট ব্যাংকে সেভিংস একাউন্ট করতে পারেন। এছাড়া এখানে সেভিংস একাউন্ট করলে আপনি বছর বছর তাদের নির্ধারিত ইন্টারেস্ট রেট অনুযায়ি কিছু টাকা বোনাস পাবেন।

কারেন্ট একাউন্ট: আপনি যদি একজন ব্যবসায়ি হয়ে থাকেন, যেখানে আপনাকে নিয়মিত টাকা লেনদেন করার প্রয়োজন হয় তবে আপনি ট্রাস্ট ব্যাংকে একটি কারেন্ট একাউন্ট করতে পারেন। ব্যবসা এবং কর্পোরেটদের জন্য বিশেষ ভাবে এই একাউন্ট করা হয়েছে।

স্টুডেন্ট একাউন্ট: আপনি যদি একজন স্টুডেন্ট হয়ে থাকেন তবে আপনার জন্য ট্রাস্ট ব্যাংকে রয়েছে একটি ভিন্ন ধরনের একাউন্ট। ট্রাস্ট ব্যাংক স্টুডেন্ট একাউন্ট স্টুডেন্টদের টাকা জমা করার জন্য বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে থাকে।

<<যৌথ একাউন্ট করার জন্য পড়ুন যৌথ ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম>>

ট্রাস্ট ব্যাংক সেভিংস একাউন্ট

সেভিংস একাউন্টে দৈনিক ভিত্তিতে সুদ গননা করা হয়। এই একাউন্টে আপনি যে কোনো সময় টাকা জমা এবং উত্তোলন করতে পারবেন। সেই সাথে আরো কি কি সুবিধা আপনি ট্রাস্ট ব্যাংক সেভিংস একাউন্টে পাবেন তা দেখে নেয়া যাক।

ট্রাস্ট ব্যাংক একাউন্ট সুবিধা

ট্রাস্ট ব্যাংকে যদি আপনার একটি একাউন্ট থাকে, তবে আপনি যেসকল সুবিধা পাবেন তা হলো:

  • ব্যক্তিগত MICR চেক বুক,
  • নাম-মাত্র সার্ভিস চার্জ,
  • যে কোন শাখায় ব্যাংকিং সুবিধা,
  • ই-স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করার সুবিধা,
  • আপনার ট্রাস্ট সেভিংস ডিপোজিট অ্যাকাউন্টের যে কোনো সমস্যা বা প্রশ্নের উত্তর পেতে ফোন সার্ভিস সুবিধা,
  • টিবিএল এটিএম/যেকোনো ভিসা এটিএম-এর মাধ্যমে আপনার একাউন্টে অ্যাক্সেস করার সুবিধা,
  • ভিসা ডেবিট কার্ড সুবিধা,
  • বিনামূল্যে ইন্টারনেট ব্যাংকিং সুবিধা,
  • আপনার অ্যাকাউন্টের সমস্ত লেনদেনে জন্য SMS পরিষেবা,
  • ট্রাস্ট ব্যাংকের সমস্ত শাখায় বিনামূল্যে অনলাইন ব্যাংকিং পরিষেবা।

একাউন্ট খোলার শর্ত

যে কোনো ব্যাংকে একাউন্ট করার ক্ষেত্রে কিছু শর্ত মেনে চলতে হয়। তাই এখানেও কিছু শর্ত আছে যা আপনাদের মেনে চলতে হবে। এই শর্ত হলো:

  • একাউন্ট করার জন্য একাউন্টধারীকে অবশ্যই বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে।
  • বয়স অবশ্যই আঠারো বছর হতে হবে।
  • আঠারো বছরের নিচে কেউ যদি খুলতে চায় তবে খুলতে পারবে। কিন্তু এক্ষেত্রে তার অবিভাবকের সহায়তায় খুলতে হবে।

একাউন্ট করার জন্য প্রয়োজনিয় ডকুমেন্টস

  • সম্পূর্ণরূপে পূরণ করা এবং স্বাক্ষর করা আবেদনপত্র |

চাকরিজীবীদের জন্য

  • পরিষ্কার ছবি এবং স্বাক্ষর সহ কোম্পানি আইডির ফটোকপি,
  • তিনটি নমুনা স্বাক্ষর সহ একটি বৈধ সরকার-প্রদত্ত আইডির ফটোকপি,
  • সর্বশেষ এক মাসের পেস্লিপ।

ব্যবসায়িদের ক্ষেত্রে

  • জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি,
  • সর্বশেষ দুই বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবৃতি,
  • ট্যাক্স সার্টিফিকেট,
  • যোগাযোগের ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে: একটি বিদ্যুৎ বিল / গ্যাস বিল / ওয়াসা বিল / টেলিফোন বিলের ফটোকপি (যে কোনো একটি),
  • প্রাথমিক জমার টাকা (নগদ) এসবি-টাকা ২,০০০/- এবং সিডি টাকা ৫,০০০/-,
  • একাউন্ট ধারক দ্বারা যথাযথভাবে প্রত্যয়িত নমিনির একটি পাসপোর্ট সাইজের ছবি,
  • অপ্রাপ্তবয়স্ক নমিনির ক্ষেত্রে, জন্ম সনদের অনুলিপি এবং ছবি,
  • কেওয়াইসি ফর্ম।

ট্রাস্ট ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম

আপনার সব ঠিক থাকলে, শর্তগুলো ফুলফিল হলে এবং সকল ডকুমেন্টস সংগ্রহ হলে তা নিয়ে আপনার নিকটস্থ ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্রাঞ্চে চলে যান। সেখানে গিয়ে আপনার একাউন্ট খুলার ইচ্ছার ব্যাপারে বললে তারা আপনাকে সাহায্য করবে।

এখানে আপনাকে একটি ফর্ম দেয়া হবে, যেখানে আপনার বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে এবং সেখানে সকল প্রকার সুবিধা ও শর্ত সমূহ সহ আরো যা যা বিষয় দরকারি তা উল্লেখ থাকবে।

ফর্মটি নির্ভুল ভাবে আপনার ডকুমেন্টস দেখে পূরণ করে তারপর তা ব্যাংকে জমা করে দিতে হবে। জমা করে দেয়ার সময় আপনার ডকুমেন্টস সমূহের কপিও দিতে হবে। তারপর তারা সময় নিয়ে আপনার একাউন্টি খুলে দিবে।

অ্যাকাউন্ট রক্ষণাবেক্ষণ ফি

  • ১০,০০০ টাকার কম বা সমান ব্যালেন্সের জন্য কোন চার্জ নেই।
  • ২৫,০০০ টাকা টাকার কম বা সমপরিমাণ ব্যালেন্সের জন্য ৬ মাসে ১০০ টাকা।
  • ২৫,০০০ টাকা থেকে ২০০,০০০ টাকার বেশি ব্যালেন্সের জন্য ৬ মাসে ২০০ টাকা।
  • ২০০,০০০ টাকা থেকে শুরু করে ১০,০০,০০০ টাকার জন্য ৬ মাসে ২৫০ টাকা।
  • ১০,০০,০০০ টাকার বেশি হলে ৬ মাসে ৩০০ টাকা।

একাউন্ট সম্পর্কিত প্রশ্ন এবং উত্তর

কারা একটি সেভিংস অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে?

যে কেউ একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে। এমনকি আপনি এটিকে আপনার বেতন অ্যাকাউন্ট হিসাবে ব্যবহারও করতে পারেন।

অপ্রাপ্ত বয়ষ্করা কিভাবে ট্রাস্ট ব্যাংকে একটি সেভিংস একাউন্ট খুলতে পারবে?

আঠারো বছরের নিচে কেউ যদি খুলতে চায় তবে খুলতে পারবে। কিন্তু এক্ষেত্রে তার অবিভাবকের সহায়তায় খুলতে হবে।

অন্য ব্যাংকে একাউন্ট করার নিয়ম

Similar Posts

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।