বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম ও সুবিধা

বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম, এর জন্য প্রয়োজনিয় যা যা লাগবে এবং এর সুবিধা গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এই পোস্টে।

বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম | বিকাশ এজেন্ট রেজিস্ট্রেশন | How to open bkash agent account

যারা উদ্দোক্তা হতে চান তারা বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম অনুসরণ করে খুব সহজে একাউন্ট করে বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা করতে পারেন। তবে এখানে আরো কিছু বিষয় আছে যা এই পোস্টে আলোচনা করা হয়েছে।

এই ব্যবসায় বিকাশের সাথে মিলে কাজ করে এজেন্ট একটি ভালো ইনকাম করার ‍সুযোগ পায় আর বিকাশ পায় কিছু মাধ্যম যার মাধ্যমে তারা তাদের গ্রাহকদের কাছে আরো সহজে পৌছোতে পারে।

যাই হোক, বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম খুব সহজ। বিকাশ এজেন্ট রেজিস্ট্রেশন করার জন্য কি কি করতে হবে, ডকুমেন্টস কি কি লাগবে এবং আরো কি কি বিষয় আছে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা নিচে পড়ুন।

বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা কি?

কাস্টমারদের কাছে বিকাশের সেবা সহজে পৌছে দিতে বিকাশ তাদের মাধ্যম হিসেবে কিছু মানুষ নিয়োগ দিয়ে থাকে, যারা লোকাল মার্কেটে কাস্টমারদের সরাসরি সেবা দিয়ে থাকে, তাদের সাথে বিকাশের লেনদেন সম্পন্ন করে ও সেবা নিশ্চিত করে এবং মাঝখান থেকে একটি কমিশন লাভ করে, যা তাদের মুনাফা হিসেবে থাকে।

অর্থাৎ, বিকাশ সরাসরি কাস্টমারের কাছে গিয়ে কোনো সেবা প্রদান করে না। এখানে তারা যা করে, প্রতিটি লোকাল মার্কেটে তাদের জন্য কাজ করতে পারবে এমন লোকদের এজেন্টে হওয়ার জন্য সুযোগ রাখে।

তারপর যারা এজেন্ট হতে ইচ্ছুক তারা এই সুযোগ গ্রহণ করে। তারা বিকাশের এজেন্টে হওয়ার শর্ত পূরণ করে এবং এজেন্ট হওয়ার জন্য আবেদন করে। এই আবেদন বিকাশ পর্যালোচনা করে এবং সব ঠিক থাকলে তারা আগ্রহী প্রাথীকে এজেন্ট হিসেবে অন্তরভূক্ত করে নেয়।

বিশেষ করে যারা মোবাইলের বিভিন্ন রকম সেবা দিয়ে থাকে তারা এই সুযোগ এক্সট্রা ইনকাম সোর্স হিসেবে কাজে লাগাতে পারে। যেমন ধরুন কেউ মোবাইলে ব্যালেন্স লোড করে দেয়, বা এর সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য সেবা দিয়ে থাকে। এর বাইরে অন্যরাও এই সুযোগ নিতে পারে যদি তিনি মোটামুটি জনবহুল এরিয়াতে বাস করেন।

বিকাশ এজেন্ট এর সুবিধা কি?

বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা যদি আপনি ভালো ভাবে বুঝে নামান তবে আপনি এখান থেকে লাভবান হবেন এবং বেশ কিছু সুবিধা আপনি উপভোগ করতে পারবেন একজন এজেন্ট হিসেবে। এখানে কি কি সুবিধা আপনি পাবেন আসুন তা দেখে নেয়া যাক।

  • বিকাশে কাস্টমারের লেনদেনের মাধ্যমে আপনি একটি কমিশন পাবেন।
  • এজেন্ট হিসেবে আপনি কোনো লিমিট ছাড়া লেনদেন করার সুযোগ পাবেন।
  • বিকাশ এজেন্ট এপ ব্যবহার করে সারামাসে লেনদেন করলে এবং কিছু টার্গেট পূরণ করলে থাকবে এক্সট্রা ইনসেনটিভ।
  • গ্রাহকদের পার্সোনাল একাউন্ট খুলে দিলে প্রতি একাউন্টের জন্য থাকবে ৫০ টাকা করে ইনসেন্টিভ।
  • আবার গ্রাহকদের মাসিক বিদ্যুৎ বিল পে করা সহ আরো কিছু কাজ করে দেয়ার মাধ্যমেও পাওয়া যাবে কমিশন।

বিকাশ এজেন্ট কমিশন

আপনি দুই ভাবে লেনদেন করতে পারবেন বিকাশে এবং আপনার এক্ষেত্রে কমিশনের পরিমাণও কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন হবে। দুই ভাবে বলতে আপনি চাইলে মোবাইলের কলিং অপশন থেকে *২৪৭# ডায়ল করলে লেনদেন করতে পারবেন আবার বিকাশের মোবাইল এপ থেকেও করতে পারবেন। লেনদেনের ধরণ অনুযায়ি কমিশন হবে নিন্মরুপ:

মেনু কোড ডায়াল করে লেনদেনে পাবেন৪.১০ টাকা
বিকাশ এজেন্ট এপে লেনদেনে পাবেন৪.৩০ টাকা
বিকাশ এজেন্ট কমিশন

আপনার ৯০ শতাংশ লেনদেন যদি হয় বিকাশের এজেন্ট এপের মাধ্যমে, তবে আপনি পাবেন প্রতি হাজারে ০.২০ টাকা এক্সট্রা। তার মানে, আপনি যদি এপে ব্যবসা করে থাকেন তাহলে আপনার প্রতি হাজারে লাভ থাকবে ৪.৫০ টাকা করে।

মাসিক আনুমানিক লাভ

এক লক্ষ্য টাকা দিয়ে এজেন্ট ব্যবসা শুরু করে মাসে প্রায় ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত ইনকাম করতে পারেন। ইনভেস্ট আরেকটু বেশি হয় তবে ইনকাম হবে আরো বেশি। আর যদি একটি ভালো জনবহুল এরিয়াতে আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হয় তবে আপনার জন্য এটি অনেক বেশি লাভজনক হতে পারে।

বিকাশ এজেন্ট হওয়ার নিয়ম

বিকাশ তাদের এজেন্ট হওয়ার জন্য প্রার্থির উপর কিছু শর্ত আরোপ করেছে। শর্ত পূরণ হলে তবে তারা প্রয়োজনিয় ডকুমেন্টস সহ আবেদন প্রকৃয়া চালিয়ে যেতে পারবেন। এজেন্ট হওয়ার জন্য আবেদন করতে তাদের অফিসে যোগাযোগ করা যেতে পারে। আবার লোকাল এসআর বা বিক্রয় প্রতিনিধি সাথে যোগাযোগ করলেও তিনি এই ব্যাপারে সাহায্য করবে। এছাড়াও অনলাইনেও চাইলে আবেদন করা যাবে ঘরে বসেই। আবেদন করা হলে আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে। এখানে বিকাশ আপনার আবেদন যাচাই বাছাই করে আপনার সাথে যোগাযোগ করবে।

যে যে উপায়ে আপনি আবেদন করতে পারবেন

১. বিকাশের ডিস্ট্রিবিউটর অফিসে যোগাযোগ করে।
২. লোকাল বিক্রয় কর্মির সাথে যোগাযোগ করে।
৩. অনলাইনে বিকাশের ওয়েব সাইট থেকে।

বিকাশ এজেন্ট হওয়ার শর্ত গুলো কি কি?

বিকাশের একজন এজেন্ট হওয়ার জন্য আপনাকে কিছু শর্ত ফুলফিল করতে হবে। আসুন দেখে নেই সে শর্ত গুলো কি কি এবং তা আপনি কিভাবে পূরণ করবেন।

  • আপনার একটি দোকান বা একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকতে হবে।
  • ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স থাকতে হবে।
  • টিন সার্টিফিকেট থাকতে হবে।
  • এজেন্টকে দৈনিক মিনিমাম ২০০০ টাকা বিকাশে লেনদেন করতে হবে।
  • এজেন্টের একাউন্টে কমপক্ষে ৭০০০ টাকা সবসময় থাকতে হবে। এর থেকে কম হতে পারবে না।
  • গ্রাহকদের বিকাশের পারসোনাল একাউন্ট খুলে দিতে হয়।

ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা দোকান

যদি আপনি বিকাশের এজেন্ট হতে চান তবে আপনার নিজস্ব একটি দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকতেই হবে এবং দোকানটি হতে হবে একটি ভালো স্থানে যেখানে মুটামুটি ব্যবসা হবে। ব্যবসাইক প্রতিষ্ঠান ছাড়া আপনি এজেন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন না।

তাই এর জন্য আপনাকে একটি উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করতে হবে। মনে রাখবেন, আপনার দেয়া তথ্য কিন্তু তারা সত্যতা যাচাই করতে পারে। আপনার প্রতিষ্ঠানও ভিজিট করতে পারে।

ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স

আপনার ব্যবসাইক প্রতিষ্ঠানের নিশ্চই একটি নাম আছে। আর না থাকলে তা ঠিক করে তার একটি ট্রেড লাইসেন্স তৈরি করে নিতে হবে। এখানে আপনার ভোটার আইডি কার্ডের নামের সাথে মিল রেখে হুবহু ট্রেড লাইসেন্স তৈরি করতে হবে। আপনি এটি পেয়ে যাবেন ইউনিয়ন পরিষধে, পৌরসভায় বা সিটি কর্পোরেশনে যোগাযোগ করলেই।

তাছাড়াও এখন অনলাইনে ট্রেড লাইসন্সের জন্য আবেদন করা যায়, যা তুলনামূলক সহজ। সুতরাং ট্রেড লাইসেন্স পেতে এসকল জায়গায় আপনার ট্রেড লাইসেন্সের জন্য যোগাযোগ করুন অথবা অনলাইনে আবেদন করুন।

টিন সার্টিফিকেট

আপনি যদি একজন নিয়মিত করদাতা হয়ে থাকেন তবে আপনার একটি টিন সার্টিফিকেট থাকবে। আর যদি এর আগে কর দেয়া না হয়ে থাকে তবে এটি সংগ্রহ করার জন্য আপনার এনআইডি কার্ড দিয়ে এনবিআরের ওয়েব সাইট থেকে এটি সংগ্রহ করে নিতে পারবেন।

বিকাশ এজেন্ট নাম্বার সিলেকশন

একটি সহজ নাম্বার সিলেক্ট করুন যা হবে সহজে মনে রাখার মতো। এতে করে গ্রাহকের সাথে লেনদেনে আপনার সুবিধা হবে। আপনি চাইলে যে কোনো প্রিপেইড নাম্বার বিকাশের এজেন্ট হতে ব্যবহার করতে পারেন। তবে তাতে যেন আগে থেকে কোন ধরণের বিকাশ একাউন্ট খোলা না থাকে।

বিকাশ এজেন্ট হতে যা যা লাগবে

উপরে উল্লেখিত শর্ত অনুযায়ি যেসকল ডকুমেন্টস দরকার, সেগুলো সহ আরো যা যা লাগবে তা নিচে উল্লেখ করা হলো।

  • ভোটার কার্ডের রঙিন ফটোকপি চার কপি।
  • চার কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি।
  • একটি প্রিপেইড সিম যেখানে আগে কোনো বিকাশ একাউন্ট খোলা হয়নি।
  • ট্রেড লাইসেন্স এর ফটোকপি চার কপি।
  • টিন সার্টিফিকেটের ফটোকপি করা চার কপি।

বিকাশ এজেন্ট হতে কত টাকা লাগে?

বিকাশ এজেন্ট হতে টাকা লাগে না। অর্থাৎ এজেন্ট হতে আপনাকে বিকাশকে কোনো টাকা দিতে হবে না। তবে আপনাকে কিছু ইনভেস্ট করতে হবে।

যদি গ্রামে বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা পরিচালনা করেন, তবে আপনাকে কম করে হলেও ২০,০০০ টাকা আপনার বিকাশ এজেন্ট একাউন্টে লোড করে রাখতে হবে। সেই সাথে আবার ২০,০০০ টাকা আপনাকে ক্যাশ করে রাখতে হবে।

যেহেতু কোনো দিক থেকে যদি টাকা আসে তা পেমেন্ট করার জন্য আপনার কাছে ক্যাশ টাকা থাকা দরকার। তাই সর্বোনিন্ম ৫০,০০০ এর মতো টাকা আপনাকে ইনভেস্ট করতে হবে প্রথমে, যদি তা গ্রাম সাইটের ব্যবসা হয়।

আর যদি তা শহর ভিত্তিক বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা হয় তবে আপনাকে কমপক্ষে ১০০,০০০ (এক লক্ষ) টাকা ইনভেস্ট করতে হবে। যেহেতু শহরে এর ডিমান্ড বেশি তাই ইনভেস্টও বেশি করতে হবে।

বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম

বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার জন্য আপনি যা করতে পারেন তা হলো, আপনার এলাকার বিকাশ SR এর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। তিনি আপনার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আপনার বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খুলতে সহযোগিতা করবেন। এছাড়া বিকাশের ডিস্ট্রিবিউটর অফিসে (Distributor Office) গিয়েও আবেদন করতে পারেন। আরো সহজে বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খুলতে সরাসরি বিকাশ ওয়েবসাইট থেকেও আবেদন করতে পারবেন।

অনলাইনে বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম

অনলাইনে বিকাশের এজেন্ট ফর্ম পেতে হলে তাদের ওয়েব সাইট ভিজিট করতে হবে। সেখানে দুটি ফর্ম পাবেন, এর মধ্যে মার্চেন্ট যেটি সেটি পূরণ করে জমা দিতে হবে:

অনলাইনে বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম

আবেদন করতে নিচের দেখানে ধাপগুলো পর্যায়ক্রেমে অনুসরণ করুন।

  1. ভিজিট করুন- বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার অনুরোধ তারপর এজেন্ট ও মার্চেন্টের মধ্যে এজেন্টে ক্লিক করে সেখানে চাওয়া সকল তথ্য ইংরেজিতে পূরণ করুন।
  2. এনআইডি অনুসারে আপনার নাম ইংরেজিতে নির্ভুল ভাবে লিখুন।
  3. আপনার ট্রেড লাইসেন্স এর নাম্বারটি দিন।
  4. এমন একটি মোবাইল নাম্বার দিন যেখানে আপনাকে যেকোনো সময় কল করলে পাওয়া যাবে।
  5. ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত নামটি দিন।
  6. আপনার এমন একটি মেইল দিন যেখানে আপনার রেগুলার এক্সেস আছে।
  7. তারপর ক্যাপচা পূরণ করে জমা দিন বাটনে ক্লিক করুন।

আপনার দেয়া নাম্বারে পরবর্তিতে বিকাশ অফিস থেকে কল করা হবে। কল করে তারা আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে চাইবে। আপনার দোকানটি কোথায় অবস্থিত, আপনার ব্যবসা কি, এখানে ব্যবসা কেমন হয় বা আপনি বিকাশ এজেন্ট হতে চান কেন, এ ধরণের বিভিন্ন প্রশ্ন করবে আপনাকে।

আবার আপনার এরিয়ার বাজারটি কত বড়, সেখানে আর কতো গুলো এজেন্ট আছে আপনি বাদে, এসব বিষয় গুলো তারা চেক করবে। সব কিছু চেক করে তারা যদি মনে করে যে এরিয়াটি বিকাশের ব্যবসার জন্য ঠিক আছে, এরিয়াতে এজেন্ট কম আছে, এবং এখানে এজেন্ট ব্যবসায় লাভ করা যাবে, তবেই তারা আপনার এজেন্ট হওয়ার আবেদন খুব দ্রুত এক্সেপ্ট করবে।

গ্রামে এজেন্ট নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা কম এপ্রুভাল দেয়। কারণ সেখানে মানুষের সংখ্যা কম, তাই যদি দুই একটা এজেন্ট আগে থেকেই থাকে তবে তারা নতুন করে দিতে চায় না। আবার যদি শহরে এমন একটা এরিয়াতে হয় যেটা মার্কেট বা জন বহুল এলাকা, সেখানে খুব সহজে বিকাশের এজেন্ট রিকুয়েস্ট এপ্রুভ করা হয়ে থাকে।

বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম

এজেন্টদের জন্য কিছু সতর্কতা

আপনার লাভ যেন আপনার ক্ষতিতে পরিণত না হয় তাই কিছু বিষয়ে সবসময় সতর্ক থাকুন। নিচে তা উল্লেখ করা হলো।

  • সবসময় পিন নাম্বার গোপন রাখার চেস্টা করুন।
  • কাস্টমার থেকে টাকা বুঝে নিয়ে তারপর লেনদেন করুন।
  • লেনদেনের সময় নাম্বার ভুল হচ্ছে কিনা তা চেক করুন।
  • লেনদেন সম্পন্ন করে ব্যালেন্স চেক করুন।
  • যে কোনো সমস্যায় পড়লে বিকাশ সার্ভিস পয়েন্ট এ যোগাযোগ করুন।

শেষকথা

কিভাবে বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা শুরু করবেন এবং এর জন্য কি কি লাগবে এর বিস্তারিত একটি ধারনা দিলাম এই পোস্টে। এখানে বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা নিয়ে সকল প্রকার প্রশ্নের উত্তর দেয়ার চেষ্টা করেছি। সব ঠিক ঠাক থাকলে আপনি এই ব্যবসা করে আশা করা যায় মাসে একটি ভালো এমাউন্ট ইনকাম করতে পারবেন।

দেশে মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার কারীর সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। মানুষ এখন তাদের দৈনন্দিন কাজের অংশ করে নিয়েছে এই মোবাইল ব্যাংকিং কে। তাই মোবাইল ব্যাংকিং কোম্পানি গুলোর সাথে, বিশেষ করে বিকাশের গ্রাহক বেশি হওয়ায়, তাদের সাথে যদি আপনি কাজ করতে পারেন তবে ভালো কিছু করতে পারবেন বলে আশা করা যায়।

আর আপনার যদি মোবাইলের বিভিন্ন সার্ভিস দেন এমন একটি দোকান থাকে বা একটি মুদি দোকান বা এমন কোনো ছোট খাটো ব্যবসা থাকে তবে আপনি সেই ব্যবসার সাথে এই ব্যবসা করে আপনার মাসিক ইনকাম আরো বাড়িয়ে নিতে পারবেন। তবে তার আগে আপনার এরিয়াতে এটি কেমন চলবে তার একটি ছোটখাটো গবেষনা করে নিন।

বিকাশ সম্পর্কে আরো জানতে ভিজিট করুন বিকাশ

বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা সংক্রান্ত প্রশ্ন ও উত্তর

কীভাবে পার্সোনাল বিকাশ দিয়ে ব্যবসা করা যায়?

পার্সোনাল বিকাশ একাউন্ট দিয়ে ব্যবসা করা যাবে না। এর কারণ হলো, পার্সোনাল বিকাশ একাউন্ট দিয়ে ব্যবসা করা বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিকাশ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অবৈধ ঘোষনা করা হয়েছে। আপনি যদি তা করেন এবং তারা যদি এই ব্যাপারে জানতে পারে তাহলে আপনার কাছ থেকে আর্থিক জরিমানা আদায় করতে পারে। তাই বিকাশের সাথে ব্যবসা করতে আগ্রহি হলে অবশ্যই আপনাকে এজেন্ট একাউন্ট খুলতে হবে।

বিকাশ এজেন্ট কিভাবে নিতে হয়?

বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খোলার জন্য আপনি বিকাশের লোকাল SR এর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। সরাসরি বিকাশ ডিস্ট্রিবিউটর অফিসে গিয়েও প্রয়োজনীয় সকল ডকুমেন্টস দিয়ে আবেদন করতে পারেন। আবার বিকাশ এজেন্ট একাউন্ট খুলতে সরাসরি বিকাশ ওয়েবসাইট থেকে আবেদন করতে পারবেন। বিকাশ থেকে যাচাই-বাছাই করে আপনাকে এজেন্ট করার উপযুক্ত মনে করলে আপনাকে এজেন্ট একাউন্ট খুলে দিবে।

বিকাশ এজেন্ট হতে কত টাকা লাগে?

এজেন্ট হতে আপনাকে বিকাশকে কোনো টাকা দিতে হবে না। তবে আপনাকে কিছু ইনভেস্ট করতে হবে। যদি গ্রামে বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা পরিচালনা করেন, তবে আপনাকে কম করে হলেও ২০,০০০ টাকা বিকাশ এজেন্ট একাউন্টে লোড করে রাখতে হবে। সেই সাথে আবার ২০,০০০ টাকা আপনাকে ক্যাশ করে রাখতে হবে। আর যদি তা শহর ভিত্তিক বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা হয় তবে আপনাকে কমপক্ষে ১০০,০০০ (এক লক্ষ) টাকা ইনভেস্ট করতে হবে।

সর্বনিম্ন কতো টাকা এজেন্ট একাউন্টে সবসময় থাকা বাঞ্চনিয়?

আপনাকে সব সময় আপনার একাউন্টে অবশ্যই মিনিমাম ৭০০০ টাকা লোড রাখতেই হবে। অর্থাৎ এর থেকে কখনই কমতে পারবেনা।

বিকাশ সংক্রান্ত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের লিংক

১. বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করার নিয়ম
২. বিদেশ থেকে বিকাশে টাকা পাঠানোর নিয়ম
৩. আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর নিয়ম
৪. সহজে ভিসা কার্ড থেকে বিকাশে টাকা আনার নিয়ম
৫. সোনালী ব্যাংক ও বিকাশে টাকা লেনদেন করার নিয়ম

Similar Posts

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।