অনলাইনে আবেদন করে কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন পাওয়ার উপায়

প্রিয় পাঠক, আপনি কি কোনো ব্যাবসা বা প্রজেক্ট দাড় করানোর জন্য লোন খুজছেন? তবে আজকের এই পোস্ট থেকে জানতে পারবেন Karmasangsthan bank loan বা কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন পাওয়ার উপায় সম্পর্কে। কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন পদ্ধতি তুলনামূলক সহজ।

কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন পাওয়ার উপায় | কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন পদ্ধতি

এটি সহজ কারণ আপনি চাইলে ঘরে বসে অনলাইনে এই লোনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। অনেক সময় লোনের জন্য ব্যাংকে বার বার গিয়েও লাভ হয় না। অথবা লোন দিতে সমস্যা করে। যে সমস্যা এখন আর থাকছে না এই অনলাইন কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন পদ্ধতি এর কারণে।

তাহলে চলুন দেখে নেয়া যাক কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন পাওয়ার উপায় কি, karmasangsthan bank loan online application পদ্ধতি সহ। সেই সাথে এই ব্যাংকের ঋণ দেয়ার উদ্দেশ্য কি এবং কারা কারা এই ঋণ পাবে ও সর্বোচ্চ কত টাকা পাবে, ইত্যাদি।

কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন

ঋণের উদ্দেশ্য

সরকারের বিশেষ কর্মসূচির আওতায় বেশ কিছু পরিকল্পনা কে অন্তরভূক্ত করা হয়েছে। প্রথমত, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঝুঁঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশু শ্রম নিরসন প্রকল্প তার একটি।

সাথে শিল্প কলকারখানায় স্বেচ্ছা অবসর বা কর্মচ্যুত শ্রমিক-কর্মচারীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান কর্মসূচি। আবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে কৃষিভিত্তিক শিল্পে ঋণ সহায়তা কর্মসূচিতে ঋণ দেওয়া হয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে।

বিশেষ করে বেকার যুবদের আত্মকর্মসংস্থানে ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি, কৃষিভিত্তিক শিল্পে ঋণ কর্মসূচিতে জামানতবিহীন ঋণ দেওয়া হয়। এছাড়াও মৎস্য, প্রাণী সম্পদের খামার, শিল্পকারখানা, কুটিরশিল্প, সেবা খাত, বাণিজ্যিক খাত ও অন্যান্য উৎপাদনশীল প্রকল্প খাতে ঋণ দেওয়া হয়।

এই ঋণের বিশেষ উদ্দেশ্য টাই হচ্ছে যুবকদের বেকারত্ব দূর করা এবং তাদের জন্য একটি কর্মসংস্থার সৃষ্টি করা। তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সম্পৃক্ত করা। স্পষ্টত এটি একটি বিশাল সুযোগ যারা উদ্দোগতা হতে আগ্রহি, তাদের জন্য।

আবেদনের যোগ্যতা

আপনি যদি কর্মসংস্থান ব্যাংক লোনের জন্য আবেদন করতে চান, সেক্ষেত্রে আপনার কিছু যোগ্যতা থাকতে হবে। কোন কোন বিষয় গুলো আপনার মধ্যে থাকা দরকার তা নিচে পর্যায়ক্রমে তুলে ধরা হলোঃ

  • বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
  • যে শাখা থেকে নিতে ইচ্ছুক, সে এরিয়ার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
  • বেকার অথবা অর্ধবেকার যুবক যুবতিরা এই লোন পাবেন।
  • ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়স পর্যন্ত যে কেউ এই লোনের জন্য ব্যাংকে আবেদন করতে পারবেন।
  • অন্য কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান অথবা বেসরকারী প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ খেলাপী হলে ঋণ পাওয়ার জন্য যোগ্য হবেন না।
  • গ্রহিতার ঋণ ব্যবহারের যোগ্যতা, ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা ও আর্থিক আচরণকে বিচার করা হবে।
  • ঋণ গ্রহিতাকে ইকুইটি বহনের ক্ষমতা থাকতে হবে (শুধুমাত্র প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
  • গ্রহিতার প্রকল্প পরিচালনার বিষয়ে প্রশিক্ষন অথবা অভিঙ্গতা থাকতে হবে।

এছাড়াও যারা বিয়ে করেছেন কিন্তু এখন পর্যন্ত বেকার, তারাও এই লোন পাবেন।

ঋণের পরিমাণ

এই ক্ষেত্রে কোনো একক ব্যাক্তির নামে সর্বোচ্চ ২৫০,০০০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ আবেদনকারী পেয়ে থাকে। যদি ৫ জনের একটি গ্রুপ আবেদন করে থাকে তবে সর্বোচ্চ ৫০,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত ঋণ পেতে পারে।

তবে জামানত ছাড়াও ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন এবং ২০০,০০০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০০,০০০ টাকা পর্যন্ত লোন পেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আপনার একজন গ্যারান্টরের প্রয়োজন হবে ঋণ নিতে। গ্যারান্টন কে আবশ্যই এমন একজন হতে হবে যিনি স্বাভাবিক ভাবে আয় করছেন। অর্থাৎ তার একটি সোর্স অফ ইনকাম থাকতে হবে।

কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন পদ্ধতি

লোনের জন্য আবেদন

প্রথমে ব্যাংকের ওয়েব সাইটে চলে আসতে হবে। লোন এপ্লিকেশন ফর্মে আসার পর:

  1. প্রথমে আপনাকে আপনার প্রজেক্ট এরিয়া সিলেক্ট করতে হবে।
  2. তারপর আপনার নাম।
  3. জাতীয় পরিচয় পত্র নাম্বার।
  4. মোবাইল নাম্বার।
  5. বাবার নাম/ স্পাউসের নাম।
  6. মায়ের নাম।
  7. বর্তমান এবং স্থায়ি ঠিকানা দিতে হবে।
  8. তারপর গ্যারান্টারের নাম।
  9. তার ভোটার আইডি কার্ড নাম্বার।
  10. বার্থ ডেট।
  11. সবার শেষে প্রজেক্ট টাইপ বা প্রজেক্টের নাম সিলেক্ট করতে হবে।

লিখা হয়ে গেলে “Submit” অপশনে ক্লিক করে ফর্মটি জমা দিন।

আবেদন করতে ভিজিট করুন

আবেদনের ফর্মটি পেতে ও পূরণ করতে ভিজিট করুন ব্যাংকের ওয়েবসাইট

কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন পদ্ধতি

কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন সম্পর্কে আরো জানুন

ঋণের খাত

মৎস চাষ

  • কার্প জাতীয় মাছ, ভেটকি,চিতল, কৈ, মনোসেক্স তেলাপিয়া, শোল,গজার, পুটি ইত্যাদি।
  • ক্যাট ফিস বা পাঙ্গাস, বোয়াল মাছ, পাবদা, টেংরা, সিং, মাগুর, চিংড়ি, মিশ্র মৎস্য চাষ ও রেণু পোনা উৎপাদন।

প্রাণি সম্পদ

  • পোল্ট্রিফার্ম : মুরগীর খামার, কোয়েল খামার, টারকি খামার, হাঁস খামার, রাজহাঁস , ময়ূর খামার, কবুতর ও তিতির খামার ইত্যাদি।
  • গবাদিপশু মোটাতাজাকরণ : গরু, ছাগল, ভেড়া/মেষ মোটাতাজাকরণ, ও মহিষ মোটাতাজাকরণ, ইত্যাদি।
  • দুগ্ধ খামার : গরু, ছাগল, ভেড়া/মেষ ও মহিষ দুগ্ধ খামার ইত্যাদি।

শিল্প কারখানা

  • মৎস্য হ্যাচারী ও পোল্ট্রি হ্যাচারী, কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরির কারখানা, প্রাণি খাদ্য তৈরির কারখানা, মৎস্য খাদ্য তৈরির কারখানা।
  • চিড়া ও মুড়ি কল, রাইস মিল, বেকারী শিল্প, তেল কল, স’মিল, সুষম সার প্রস্তুতকারী শিল্প, গুঁড়া মসলা উৎপাদনকারী শিল্প। 
  • ফলজাত খাদ্য শিল্প (জ্যাম, জেলি, জুস, আচার, শরবত, সিরাপ,সস), আটা, ময়দা, সুজি প্রস্তুতকরণ, স্টার্চ, গ্লুকোজ।
  • ডিজাইন ফ্যাশন ওয়্যার,  ডেক্সট্রোজ উৎপাদনকারী শিল্প, আইসক্রিম ফ্যাক্টরী, সুগন্ধি চাল উৎপাদন, ডাল প্রক্রিয়াজাতকরণ।
  • জর্দা প্রস্তুতকরণ, নারিকেল তেল উৎপাদন, বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ, রাবার প্রক্রিয়াজাতকরণ, চামড়া শিল্প, ইত্যাদি।

ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প

  • মৃৎ শিল্প, কামারের কাজ, ব্লক-বাটিক, গ্রামীণ স্যানিটারী ল্যাট্রিন তৈরি, তাঁত ও বুনন শিল্প, কাঠের বা স্টীলের আসবাবপত্র তৈরি।
  • রেশমবস্ত্র প্রস্তুতকরণ, কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরি, মোমবাতি/আগরবাতি/দাঁতের মাজন/কয়েল তৈরি, বাঁশ ও বেত শিল্প।

  • যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানা, ক্ষুদ্র প্রিন্টিং এবং সাইনবোর্ড তৈরি, শুটকি মাছ প্রক্রিয়াকরণ বরফ কল, নকশী কাঁথা তৈরী ইত্যাদি।

কৃষিজ উৎপাদন

  • মাশরুম চাষ, শাক সবজি চাষ, রেশম চাষ, ফল চাষ, মৌমাছি চাষ, পান চাষ, ফুল চাষ ইত্যাদি।
  • নার্সারী করা।

সেবা খাত

  • সেলুন, লন্ড্রি, বিউটি পার্লার, হারবাল ট্রিটমেন্ট, পাওয়ার টিলার, টিভি/ভিসিআর/বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি/ মোবাইল মেরামত।

  • কম্পিউটার ও ফটোকপি সেবা, গ্রামীণ যানবাহন (রিক্সা/নৌকা/রিক্সা-ভ্যান), সেলাই মেশিন, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং/গাড়ী মেরামত ওয়ার্কসপ।
  • ডায়াগনস্টিক সেন্টার/ক্লিনিক/দন্ত চিকিৎসালয়, স্টুডিও, শিক্ষা সেবা (কোচিং সেন্টার/কিন্ডার গার্টেন), ক্যাবল অপারেটরস।
  • জেনারেটরের বিদ্যুৎ বিতরণ, কমিউনিটি সেন্টার, বিনোদন পার্ক, আবাসিক হোটেল, পর্যটন এরিয়া, সোলার পাওয়ার, সাইবার ক্যাফে ইত্যাদি।

বাণিজ্যিক খাত

  • মুদি ব্যবসা, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, তৈরী পোষাক ব্যবসা, প্রাণি খাদ্য/মৎস্য খাদ্য বিক্রয়, ধান ও অন্যান্য কৃষিপণ্য ক্রয়-বিক্রয়।
  • সার/বীজ/কীটনাশক ব্যবসা, পার্টসের দোকান, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী বিক্রয়, ঔষধ ব্যবসা, শুটকি মাছ ব্যবসা, পাথর বিক্রয়।

  • বালি বিক্রয় ব্যবসা, জুতার ব্যবসা, ক্রোকারিজ বিক্রয়, ভাঙ্গারি ব্যবসা, হার্ডওয়্যার ব্যবসা, হোটেল/রেস্টুরেন্ট ব্যবসা, আসবাবপত্র বিক্রয়।

মৃত্যু ঝুঁকি আচ্ছাদন স্কীম

  • ব্যাংকের নিজস্ব কর্মসূচীর আওতায় প্রত্যেক লোন গ্রহীতাকে মৃত্যু ঝুঁকি আচছাদন স্কীমের সদস্য হতে হবে।
  • প্রত্যেক সদস্যকে ঋণের মেয়াদ অনুযায়ি নিম্নবর্ণিত হারে অফেরতযোগ্য একটি চাঁদা প্রদান করতে হবে।
ক্রমিক নংঋণের মেয়াদচাঁদার হার
এক বছরের জন্য০.৪০%
দুই বছরের জন্য০.৫০%
দুই বছরের উদ্ধে০.৬০%

ঋণের মেয়াদকালে চলাকালে ঋণগ্রহীতার মৃত্যু হলে এবং হিসাবটি নিয়মিত থাকলে অবশিষ্ট সমুদয় পাওনা এ স্কীম হতে সমন্বয় করা হবে। মৃতের উত্তরাধিকারীগণকে ঋণের কোনো প্রকার দায় বহন করতে হবে না। তবে তারা কোনো আর্থিক সুবিধা পাবেন না।

স্ট্যাম্প খরচ (ঋণগ্রহীতা বহন করবেন)

বলবৎ স্ট্যাম্প এ্যাক্ট অনুসারে চার্জ ডকুমেন্টে নিচে দেখানো মূল্যমানের স্ট্যাম্প ব্যবহৃত হবে। তবে এই মূল্যমান পরিবর্তনযোগ্য।

i)ডিপি নোট বা ডবল পার্টি ডিপি নোটঃ

  • ২,০০০ টাকা মূল্যমানে চার্জ ১০ টাকা
  • ২,০০০ টাকার ঊর্ধ্বে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত মূল্যমানের জন্য চার্জ ২০ টাকা
  • ১০,০০০ টাকার ঊর্ধ্বের মূল্যমানের জন্য চার্জ ৫০ টাকা।

(ii) ডিপিনোট ডেলিভারী লেটার (স্ট্যাম্পবিহীন)।

(iii) হাইপোথিকেশন ডিডঃ ৩০০ টাকার Adhesive Stamp সহ

(iv) মূল দলিল জমা রাখার স্মারকলিপিঃ ৩০০ টাকার Adhesive Stamp সহ

(v) তৃতীয় পক্ষের গ্যারান্টিঃ ৩০০ টাকার Adhesive Stamp সহ

(vi) রেজিস্টার্ড বন্ধকি দলিল ও আমমোক্তারনামাঃ বলবৎ রেজিস্ট্রেশন আইন অনুসারে।

প্রশ্ন ও উত্তর

কর্মসংস্থান ব্যাংক লোনে সুদের হার কত?

উঃ উৎপাদনশীল ও সেবামূলক খাতের ঋণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি ‍নির্ধারিত সুদ হার আছে। বার্ষিক শতকরা সুদের হার ১১ টাকা (Flat Rate), ঋণটি মেয়াদোত্তীর্ণ হলে ১% যোগ করে সুদারোপযোগ্য হবে।

বাণিজ্যিক খাতের ঋণের ক্ষেত্রে এটা আরেকটু বেশি। বার্ষিক শতকরা সুদের হার ১৩ টাকা (Flat Rate), এ ঋণটিও মেয়াদোত্তীর্ণ হলে ১% যোগ করে সুদারোপযোগ্য হবে। একই ভাবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়িক ঋণ কর্মসূচীতেও বার্ষিক শতকরা সুদের হার-১৩%।

আর কৃষি ভিত্তিক কোনো শিল্প খাতের জন্য ঋণ নিলে বার্ষিক শতকরা সুদের হার হবে ৮%-৯%।

ঋণের আবেদন নিষ্পত্তি হতে কত দিন সময় লাগে?

গ্রাহকের ঋণের আবেদনের পর সর্বোচ্চ ৪৫ দিনের মধ্যে এর নিষ্পত্তি করা হবে।

ঋণের মেয়াদ কত বছর?

সাধারণত দুই বছর। তবে প্রকল্পের আকার বা অন্য বিষয় বিবেচনা করে ব্যাংক সর্বনিন্ম এক থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর সময় দিতে পারে। কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে এই ঋণ সহায়তা কর্মসূচী জন্য সর্বোচ্চ আট বছরও সময় দিতে পারে ব্যাংক।

আরো পড়ুন এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে টাকা পাঠানোর নিয়ম।

কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন পদ্ধতি ভিডিওতে দেখুন

Similar Posts

2 Comments

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।